IELTS Mates

কম্পিউটারে IELTSInsperaপরীক্ষার দিন

IELTS-এর Inspera ইন্টারফেস ও পরীক্ষার দিন: পুরো গাইড

১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ · ৫ মিনিট পড়া · IELTS Mates

A candidate at a computer-delivered IELTS test station

বাংলাদেশে IELTS এখন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কম্পিউটারে হয়। আর ২০২৪-২৫ থেকে সেই কম্পিউটার-পরীক্ষাটা চলছে একটা নতুন প্ল্যাটফর্মে — Inspera। যাঁরা ইউটিউবে পুরোনো ধূসর ইন্টারফেসের ভিডিও দেখে প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাঁরা পরীক্ষার দিন একটা অন্য স্ক্রিন দেখবেন। এই লেখায়: কীভাবে এলাম এখানে, নতুন স্ক্রিনে কী কী করা যায় আর যায় না, আর পরীক্ষার দিন দরজা থেকে বেরোনো পর্যন্ত ঠিক কী ঘটে।

একটু পেছনের গল্প

IELTS শুরু হয়েছিল ১৯৮৯ সালে, কাগজে-কলমে। প্রায় তিন দশক সেভাবেই চলেছে — উত্তরপত্র, পেন্সিল, আর লিসেনিং-এর শেষে উত্তর সরানোর জন্য দশ মিনিট। ২০১৭ সালে প্রথম "IELTS on computer" চালু হয়: একই প্রশ্ন, একই পরীক্ষক, একই ব্যান্ড স্কেল — শুধু উত্তরটা কি-বোর্ডে টাইপ করা। সুবিধা ছিল দুটো: বেশি তারিখ, আর ফলাফল ১৩ দিনের বদলে ৩-৫ দিনে

প্রথম কম্পিউটার-ইন্টারফেসটা ছিল ধূসর পটভূমির, কিছুটা পুরোনো ধাঁচের। ২০২৪-২৫ জুড়ে IELTS-এর পার্টনাররা সেটা বদলে Inspera-তে নিয়ে গেছেন — নরওয়ের একটি অ্যাসেসমেন্ট প্ল্যাটফর্ম, যেটা বিশ্বের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজিটাল পরীক্ষায় ব্যবহৃত হয়। প্রশ্ন বদলায়নি, নম্বর দেওয়ার নিয়ম বদলায়নি। বদলেছে স্ক্রিনটা — আর স্ক্রিনটাই পরীক্ষার দিন আপনার সবচেয়ে কাছের জিনিস।

যে প্রার্থী পুরোনো ইন্টারফেসের ভিডিও দেখে অভ্যাস করেছেন, তিনি পরীক্ষার দিন প্রথম পাঁচ মিনিট ব্যয় করবেন বোতাম খুঁজতে। পাঁচ মিনিট মানে লিসেনিং-এর পার্ট ১-এর অর্ধেক।

নতুন স্ক্রিনটা দেখতে কেমন

প্রথম যা চোখে পড়বে: সাদা পটভূমি, ধূসর নয়। পরিষ্কার, কম জিনিসপত্র, বড় লেখা।

  • নিচে ৪০টি প্রশ্নের সারি। স্ক্রিনের একেবারে নিচে প্রতিটি প্রশ্নের নম্বর একটা করে বোতাম হিসেবে থাকে। যেকোনো নম্বরে ক্লিক করলে সরাসরি সেই প্রশ্নে যাওয়া যায় — সামনে, পেছনে, যেদিকে খুশি।
  • ওপরে টাইমার। শেষ ৫ মিনিট বাকি থাকলে টাইমারটা লাল হয়ে যায়, আবার ২ মিনিটে আরেকবার সতর্ক করে। এটা দেখে চমকে যাবেন না — এটাই স্বাভাবিক।
  • প্রতিটি প্রশ্নের পাশে একটি পতাকা। যে প্রশ্নে নিশ্চিত নন, পতাকায় ক্লিক করুন — সেটা লাল হবে, আর নিচের নম্বর-সারিতেও সেই নম্বরের পাশে পতাকা দেখা যাবে। শেষে ফিরে আসার জন্য এটাই আপনার তালিকা।

যা করতে পারবেন

কাজকীভাবেকোন পেপারে
যেকোনো প্রশ্নে লাফ দেওয়ানিচের নম্বর-সারিতে ক্লিকসব পেপারে
প্রশ্ন পতাকা দিয়ে চিহ্নিত করাপতাকা আইকনে ক্লিক — লাল হবেসব পেপারে
প্যাসেজে শব্দ হাইলাইট করাটেক্সট সিলেক্ট করে রাইট-ক্লিক → Highlightরিডিং
শব্দ গোনাস্ক্রিনেই স্বয়ংক্রিয় শব্দসংখ্যা দেখায়রাইটিং
Task 1 আর Task 2-এর মধ্যে যাওয়া-আসাযখন খুশি, যতবার খুশিরাইটিং
কাগজে নোট নেওয়াকেন্দ্র থেকে দেওয়া কাগজ ও পেন্সিলেসব পেপারে

রাইটিং-এর শব্দসংখ্যা নিয়ে একটা কথা: এটা a, an, the, of, in — সব শব্দই গোনে। অর্থাৎ যে ২৫০ শব্দ আপনি স্ক্রিনে দেখছেন, পরীক্ষকও ঠিক সেটাই দেখবেন। আলাদা করে গুনতে হবে না, আর "articles গোনা হয় কি না" নিয়ে দুশ্চিন্তাও করতে হবে না।

যা করতে পারবেন না

  • Ctrl+F কাজ করে না। রিডিং প্যাসেজে কোনো শব্দ খোঁজার জন্য কি-বোর্ড সার্চ নেই। চোখ দিয়ে স্ক্যান করতে হবে — আর ঠিক এই কারণেই স্কিমিং-স্ক্যানিং-এর অভ্যাসটা কম্পিউটার-পরীক্ষাতেও একই রকম জরুরি।
  • কপি-পেস্ট নেই। প্র্যাকটিস ডেমোতে হয়তো কাজ করবে, আসল পরীক্ষায় বন্ধ। প্যাসেজ থেকে শব্দ তুলে উত্তরের ঘরে বসাতে হলে টাইপ করতে হবে — আর টাইপ করতে গিয়েই বানান ভুল হয়। সেটা মাথায় রাখুন।
  • লিসেনিং-এ প্রশ্ন নিজে থেকে বদলায় না। একটা পার্ট শেষ হলে স্ক্রিন পরের পার্টে যায় না — আপনাকে নিজে নিচের সারি থেকে পরের প্রশ্নে ক্লিক করতে হবে। যাঁরা কাগজের পরীক্ষায় অভ্যস্ত, তাঁরা এখানে আটকে যান: অডিও পার্ট ২ শুরু করে দিয়েছে, আর তিনি এখনও পার্ট ১-এর স্ক্রিনে।
  • অডিও একবারই। পেছনে যাওয়ার বোতাম নেই, থামানোর বোতাম নেই। হেডফোনের ভলিউম বদলানো যায়, আর কিছু না।
  • লিসেনিং-এর শেষে উত্তর সরানোর ১০ মিনিট নেই। কাগজে যেটা ছিল, কম্পিউটারে সেটা নেই — কারণ উত্তর তো স্ক্রিনেই টাইপ করেছেন। বদলে শেষে ২ মিনিট পাবেন উত্তরগুলো একবার দেখে নেওয়ার জন্য। মাত্র দুই মিনিট।

পরীক্ষার দিন: দরজা থেকে বেরোনো পর্যন্ত

  1. পৌঁছানো। নির্ধারিত সময়ের অন্তত ৩০ মিনিট আগে। দেরি হলে ঢুকতে না-ও দেওয়া হতে পারে, আর ফি ফেরত হয় না।
  2. পরিচয়পত্র। বাংলাদেশে পাসপোর্ট — ঠিক সেই পাসপোর্ট যেটা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন। NID, ড্রাইভিং লাইসেন্স, স্টুডেন্ট আইডি — কোনোটাই চলবে না। পাসপোর্ট ভুলে গেলে পরীক্ষা হবে না।
  3. চেক-ইন। ছবি তোলা হবে, আঙুলের ছাপ নেওয়া হবে, পাসপোর্টের সাথে মেলানো হবে। এই ছবিটাই আপনার ফলাফলের সার্টিফিকেটে যাবে — সেভাবেই তৈরি হয়ে যান।
  4. জিনিসপত্র। ফোন, ঘড়ি, ব্যাগ, জ্যাকেট — সব লকারে। পরীক্ষার ঘরে যাবে শুধু পাসপোর্ট আর একটা স্বচ্ছ বোতলে পানি, লেবেল ছাড়া।
  5. বসার জায়গা। নিজের কম্পিউটার, হেডফোন, একটা পেন্সিল, আর নোটের জন্য কাগজ। লিসেনিং আর রিডিং-এর জন্য একটা কাগজ, রাইটিং-এর আগে নতুন একটা। কাগজ পরীক্ষার শেষে জমা দিতে হয়।
  6. লিসেনিং। প্রায় ৩০ মিনিট, চারটি পার্ট, অডিও একবার। শেষে ২ মিনিট উত্তর দেখার জন্য। হেডফোন পরীক্ষার আগে ভলিউম ঠিক করে নেবেন — শুরুর পর কেউ সাহায্য করতে আসবে না।
  7. রিডিং। ৬০ মিনিট, তিনটি প্যাসেজ, ৪০ প্রশ্ন। লিসেনিং শেষ হলেই শুরু, মাঝে বিরতি নেই
  8. রাইটিং। ৬০ মিনিট, দুটি টাস্ক। এখানেও বিরতি নেই। প্রথম তিনটি পেপার মিলে টানা প্রায় ২ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট — টয়লেটে যেতে হলে হাত তুলতে হবে, আর সেই সময় ঘড়ি থামে না।
  9. স্পিকিং। এখনও মানুষের সাথে, মুখোমুখি — কম্পিউটারে নয়। একই দিনে হতে পারে, বা সাত দিনের মধ্যে অন্য দিনে। ১১-১৪ মিনিট, তিনটি পার্ট, রেকর্ড করা হয়।
  10. ফলাফল। কম্পিউটার-পরীক্ষার ফল সাধারণত ৩ থেকে ৫ দিনে অনলাইনে। কাগজের পরীক্ষায় ১৩ দিন।

তাহলে প্রস্তুতিটা কেমন হওয়া উচিত

উপরের তালিকা থেকে তিনটি জিনিস বেরিয়ে আসে, যেগুলো কোনো ব্যাকরণ বইয়ে নেই:

  1. ইন্টারফেসটা আগে থেকে চেনা। পতাকা কোথায়, নম্বর-সারি কোথায়, লিসেনিং-এ নিজে পরের পার্টে যেতে হয় — এগুলো পরীক্ষার দিন শেখার জিনিস নয়।
  2. টাইপ করে উত্তর দেওয়ার অভ্যাস। কপি-পেস্ট নেই, তাই বানান আপনার আঙুলের ওপর। যে শব্দ শুনে বুঝেছেন, সেটা ভুল বানানে টাইপ করলে শূন্য।
  3. একবার-শোনা অডিওতে অভ্যাস। ইউটিউবে দুবার শুনে উত্তর মেলানো আর পরীক্ষায় একবার শুনে টাইপ করা — এক জিনিস নয়।

IELTS Mates-এর মক টেস্ট ঠিক এই কারণেই আসল কম্পিউটার-পরীক্ষার লেআউটে বানানো: নিচে নম্বর-সারি, পতাকা, লাল টাইমার, একবার-চলা অডিও, কপি-পেস্ট বন্ধ। পরীক্ষার দিন স্ক্রিনটা যেন পুরোনো বন্ধুর মতো লাগে — এটাই লক্ষ্য।

তথ্যসূত্র: IELTS — Take a test (ielts.org) and the IELTS on computer walkthrough

সংখ্যাটা বদলাতে চান?

দুটি পূর্ণ কম্পিউটার-ভিত্তিক মক টেস্ট ফ্রি — আসল ইন্টারফেসে, আর প্রতিটি উত্তরের ব্যাখ্যা বাংলায়।

Create a free account All guides

More